বিভাগ – ক
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো
১.১ ভারতে ফুটবল খেলার প্রচলন কারা করেন?
উত্তর: ইংরেজরা।
১.২ বিপিনচন্দ্র পাল রচিত আত্মজীবনীর নাম কী?
উত্তর: সত্তর বৎসর।
১.৩ ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
উত্তর: উমেশচন্দ্র দত্ত।
১.৪ সাধারণ জনশিক্ষা কমিটি কবে গঠিত হয়?
উত্তর: ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে।
১.৫ ‘নববিধান’ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
উত্তর: কেশবচন্দ্র সেন।
১.৬ সুই মুন্ডা কোন বিদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
উত্তর: কোল বিদ্রোহ।
১.৭ ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের অরণ্য আইনে অরণ্যকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছিল?
উত্তর: তিনটি শ্রেণিতে।
১.৮ ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে ‘ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ’ কে বলেছিলেন?
উত্তর: বিনায়ক দামোদর সাভারকর (বি. ডি. সাভারকর)।
১.৯ ভারতের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান কোনটি?
উত্তর: ভারত সভা।
১.১০ ‘ভারতমাতা’ ছবিটি কে আঁকেন?
উত্তর: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১.১১ ভারতে ‘হাফটোন’ মুদ্রণ পদ্ধতির প্রচলন কে করেন?
উত্তর: উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।
১.১২ বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন কে?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১.১৩ ‘একা’ আন্দোলনের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
উত্তর: মাদারি পাশি।
১.১৪ নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (AITUC) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে।
১.১৫ বারদৌলি সত্যাগ্রহ কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তর: গুজরাটে।
১.১৬ বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলন কোন সালে শুরু হয়?
উত্তর: ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে।
১.১৭ মাতঙ্গিনী হাজরা কোথায় ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর: তমলুক অঞ্চলে।
১.১৮ দীপালী সংঘ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: লীলা নাগ (রায়)।
১.১৯ ভারতের ‘লৌহমানব’ নামে কে পরিচিত?
উত্তর: সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল।
১.২০ ‘Train to Pakistan’ গ্রন্থের লেখক কে?
উত্তর: খুশবন্ত সিং।
—
বিভাগ – খ
উপবিভাগ – ২.১
একটি বাক্যে উত্তর দাও
২.১.১ ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
উত্তর: দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ।
২.১.২ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র কোথায় সংরক্ষণ করা হয়?
উত্তর: মহাফেজখানায়।
২.১.৩ বাংলার কোন শতককে ‘নবজাগরণের শতক’ বলা হয়?
উত্তর: উনিশ শতককে।
২.১.৪ ‘উলগুলান’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: প্রবল অস্থিরতা বা চরম বিশৃঙ্খলা।
—
উপবিভাগ – ২.২
ঠিক না ভুল নির্ণয় করো
২.২.১ শ্রীরামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
উত্তর: ভুল।
রামকৃষ্ণ মিশন স্বামী বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠা করেন।
২.২.২ ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।
উত্তর: ভুল।
সেই সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।
২.২.৩ ‘গোরা’ উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইউরোপীয় সমাজকে সমর্থন করেছিলেন।
উত্তর: ভুল।
২.২.৪ গান্ধিজি ও ড. বি. আর. আম্বেদকর যৌথভাবে দলিত আন্দোলন পরিচালনা করেছিলেন।
উত্তর: ভুল।
—
উপবিভাগ – ২.৩
‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও
‘ক’ স্তম্ভ| ‘খ’ স্তম্ভ
২.৩.১ অরবিন্দ ঘোষ| (২) বেঙ্গল ন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
২.৩.২ তারকনাথ পালিত| (৩) বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট
২.৩.৩ নবগোপাল মিত্র| (৪) হিন্দুমেলা
২.৩.৪ রশিদ আলি| (১) আজাদ হিন্দ ফৌজ
উত্তর:
২.৩.১ — (২)
২.৩.২ — (৩)
২.৩.৩ — (৪)
২.৩.৪ — (১)
—
উপবিভাগ – ২.৪
ভারতবর্ষের রেখামানচিত্রে স্থানগুলি চিহ্নিত করো
২.৪.১ সাঁওতাল বিদ্রোহের অঞ্চল
২.৪.২ নীল বিদ্রোহের একটি কেন্দ্র
২.৪.৩ দেশীয় রাজ্য হায়দ্রাবাদ
২.৪.৪ পুনর্গঠিত রাজ্য গুজরাট
উত্তর:
মানচিত্রে যথাক্রমে সাঁওতাল পরগনা, নীল বিদ্রোহের একটি কেন্দ্র (যেমন নদিয়া), হায়দ্রাবাদ এবং গুজরাট চিহ্নিত করতে হবে।
—
উপবিভাগ – ২.৫
বিবৃতি ও সঠিক ব্যাখ্যা নির্বাচন করো
২.৫.১ বিবৃতি: ‘একা’ আন্দোলন উত্তরপ্রদেশে সংগঠিত হয়েছিল।
উত্তর: ব্যাখ্যা ২ — এটি ছিল একটি কৃষক আন্দোলন।
২.৫.২ বিবৃতি: ভারত সরকার ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা শুরু করে।
উত্তর: ব্যাখ্যা ৩ — দেশব্যাপী কমিউনিস্ট ও সাম্যবাদী কার্যকলাপ দমন করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
২.৫.৩ বিবৃতি: বিংশ শতকে ভারতের উপনিবেশ-বিরোধী আন্দোলনে বামপন্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
উত্তর: ব্যাখ্যা ৩ — শ্রমিক ও কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে ব্রিটিশ-বিরোধী সংগ্রাম গড়ে তোলার পক্ষে তারা মত প্রকাশ করেছিল।
২.৫.৪ বিবৃতি: ভারতের নারীরা জাতীয় আন্দোলনে প্রথম সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের সময়।
উত্তর: ব্যাখ্যা ৩ — বিদেশি পণ্য বর্জন ও স্বদেশি আন্দোলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নারীরা সক্রিয় ভূমিকা নেন।
—
বিভাগ – গ
২–৩ বাক্যে উত্তর দাও
৩.১ সামাজিক ইতিহাস বলতে কী বোঝ?
উত্তর:
বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ইতিহাসচর্চায় সাধারণ মানুষের জীবন ও সমাজকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। সামাজিক ইতিহাসে রাজা-রাজড়াদের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সামাজিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক অবস্থা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়।
৩.২ ইতিহাসের উপাদান হিসেবে সংবাদপত্রের গুরুত্ব কী?
উত্তর:
সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ, সম্পাদকীয়, চিঠিপত্র ও সমকালীন বিভিন্ন বিষয়ে লেখা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর সাহায্যে তৎকালীন সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং জাতীয় আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
৩.৩ বাংলায় নারীশিক্ষা বিস্তারে রাজা রাধাকান্ত দেবের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর:
রাজা রাধাকান্ত দেব পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং শিক্ষাবিস্তারের বিভিন্ন উদ্যোগকে সমর্থন করেছিলেন। নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনমত গড়ে তুলতেও তাঁর ভূমিকা ছিল এবং তিনি নারীশিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগকে উৎসাহিত করেন।
৩.৪ ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ কেন বিভক্ত হয়েছিল?
উত্তর:
সংস্কারের পদ্ধতি ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় প্রশ্নে মতপার্থক্যের কারণে ব্রাহ্মসমাজে বিভাজন দেখা দেয়। কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বাধীন ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে বিরোধের পর ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে শিবনাথ শাস্ত্রী, আনন্দমোহন বসু প্রমুখের নেতৃত্বে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ গড়ে ওঠে।
৩.৫ ফরাজি আন্দোলন কি ধর্মীয় পুনর্জাগরণের আন্দোলন ছিল?
উত্তর:
ফরাজি আন্দোলনের সূচনা ইসলামের ধর্মীয় সংস্কার ও পুনর্জাগরণের উদ্দেশ্যে হয়েছিল। হাজি শরিয়তউল্লাহ ধর্মীয় কর্তব্য পালনের ওপর জোর দেন। পরবর্তীকালে জমিদার ও মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকরাও এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এটি কৃষক আন্দোলনের রূপ লাভ করে।
৩.৬ নীলকররা নীলচাষিদের কীভাবে অত্যাচার করত?
উত্তর:
নীলকররা কৃষকদের জোর করে নীলচাষে বাধ্য করত এবং নীলচাষের জন্য তাদের ঋণের ফাঁদে ফেলত। কৃষকেরা অস্বীকার করলে মারধর, ভয় দেখানো, সম্পত্তির ক্ষতি এবং অন্যান্য অত্যাচারের আশ্রয় নেওয়া হতো। এই শোষণের বিরুদ্ধেই ১৮৫৯–৬০ খ্রিস্টাব্দে নীল বিদ্রোহ দেখা দেয়।
৩.৭ উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধকে ‘সভাসমিতির যুগ’ বলা হয় কেন?
উত্তর:
পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের ফলে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন এবং বিভিন্ন দাবি সংগঠিতভাবে তুলে ধরার জন্য বাংলাসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক সভা ও সমিতি গড়ে ওঠে। তাই উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধকে ‘সভাসমিতির যুগ’ বলা হয়।
৩.৮ ‘আনন্দমঠ’ কীভাবে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়েছিল?
উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আনন্দমঠ উপন্যাসে দেশকে মাতৃরূপে কল্পনা করে দেশপ্রেমের ভাবনা তুলে ধরা হয়েছিল। উপন্যাসে ব্যবহৃত ‘বন্দে মাতরম্’ গানটি পরবর্তীকালে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।
৩.৯ বিজ্ঞান শিক্ষার বিকাশে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স’-এর ভূমিকা কী?
উত্তর:
মহেন্দ্রলাল সরকার ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে ভারতীয়দের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, পরীক্ষাগারভিত্তিক গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনার প্রসার ঘটানোর চেষ্টা করা হয়।
৩.১০ বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন। ভারতীয় আশ্রমিক শিক্ষার আদর্শের সঙ্গে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক শিক্ষাচিন্তার সমন্বয় ঘটানো ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রকৃতি, স্বাধীন চিন্তা, সৃজনশীলতা এবং মানুষের সার্বিক বিকাশকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
৩.১১ নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর:
শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠনকে একটি সর্বভারতীয় কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। শ্রমিকদের মজুরি, কর্মপরিবেশ, কাজের সময় এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়ে সংগঠিতভাবে দাবি জানানো ছিল এর গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
৩.১২ ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি’ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর:
শ্রমিক ও কৃষকদের সংগঠিত করে তাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দাবিগুলি তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি’ গড়ে ওঠে। শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা কমানো, ন্যায্য মজুরি, জমিদারি ব্যবস্থার বিরোধিতা এবং কৃষক-শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য।
৩.১৩ রশিদ আলি দিবস কেন পালিত হয়েছিল?
উত্তর:
আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাপ্টেন রশিদ আলির বিচার ও সাজাকে কেন্দ্র করে কলকাতায় তীব্র প্রতিবাদ দেখা দেয়। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে ছাত্র ও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ১২ ফেব্রুয়ারি ‘রশিদ আলি দিবস’ পালন করা হয়।
৩.১৪ দলিত কাদের বলা হয়?
উত্তর:
‘দলিত’ শব্দের অর্থ নিপীড়িত বা পদদলিত। ভারতীয় সমাজে দীর্ঘদিন ধরে জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার কারণে যে জনগোষ্ঠী সামাজিক বৈষম্যের শিকার হয়েছিল, তাদের একটি অংশ পরবর্তীকালে নিজেদের ‘দলিত’ হিসেবে পরিচিত করতে শুরু করে। ড. বি. আর. আম্বেদকর দলিত অধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন।
৩.১৫ দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির দলিল বলতে কী বোঝ?
উত্তর:
স্বাধীনতার সময় দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য যে দলিলে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল, সেটি ‘Instrument of Accession’ বা ভারতভুক্তির দলিল নামে পরিচিত। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ও ভি. পি. মেননের উদ্যোগে অধিকাংশ দেশীয় রাজ্য এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতীয় ইউনিয়নে যুক্ত হয়।
৩.১৬ ১৯৫০ সালে নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি কেন স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
উত্তর:
দেশভাগের পর ভারত ও পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, অধিকার ও উদ্বাস্তু সমস্যা মোকাবিলার উদ্দেশ্যে ১৯৫০ সালের ৮ এপ্রিল নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
—
বিভাগ – ঘ
৭–৮ বাক্যে উত্তর দাও
৪.১ নারী ইতিহাসের ওপর একটি টীকা লেখো।
উত্তর:
ইতিহাসচর্চায় দীর্ঘদিন নারীদের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হয়েছিল। বিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে নতুন সামাজিক ইতিহাস ও নিম্নবর্গের ইতিহাসচর্চার প্রভাবে নারীদের জীবন ও অভিজ্ঞতা নিয়ে গবেষণা বৃদ্ধি পায়। ১৯৭০-এর দশক থেকে নারী ইতিহাস একটি স্বতন্ত্র গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। নারীর সামাজিক অবস্থান, শিক্ষা, অধিকার, কর্মক্ষেত্র, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং আন্দোলন নারী ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাল্যবিবাহ, পণপ্রথা, বিধবা সমস্যা, নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তির মতো বিষয়ও এতে আলোচিত হয়। পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীর অবস্থান কী ছিল, তাও বিশ্লেষণ করা হয়। জের্ডা লার্নার, জেরাল্ডিন ফোর্বস, যশোধরা বাগচী, বীনা আগরওয়াল প্রমুখের গবেষণা নারী ইতিহাসচর্চাকে সমৃদ্ধ করেছে।
৪.২ স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মসংস্কারের আদর্শ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মচিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল নব্য বেদান্তবাদ। তিনি অদ্বৈত বেদান্তের ভাবনাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। তাঁর মতে মানুষের সেবা করাই ঈশ্বরের সেবা। তাই ধর্মকে শুধু আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করার কথা তিনি বলেন। জাতিভেদ, অস্পৃশ্যতা, কুসংস্কার এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরোধিতা করেন। তিনি যুবসমাজকে আত্মবিশ্বাস, কর্মশক্তি ও মানবসেবায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তাঁর আদর্শের মূল বক্তব্য ছিল নিজের মুক্তির পাশাপাশি সমাজ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করা।
৪.৩ ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সাঁওতালরা বিদ্রোহ করেছিল কেন?
উত্তর:
১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের সাঁওতাল বিদ্রোহের পেছনে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক নানা কারণ ছিল। জমিদার ও মহাজনদের শোষণে সাঁওতালদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। মহাজনরা ঋণের বিনিময়ে উচ্চ সুদ আদায় করত এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণার মাধ্যমে সাঁওতালদের জমি ও সম্পত্তি দখল করত। ব্যবসায়ীরাও ওজন ও দামের ক্ষেত্রে নানা ধরনের কারচুপি করত। রেলপথ নির্মাণের সময় ঠিকাদারদের দ্বারা বেগার শ্রম নেওয়ার অভিযোগও ছিল। রাজস্বের চাপ এবং জমির ওপর অধিকার হারানোর আশঙ্কা তাদের অসন্তোষ বাড়িয়ে দেয়। এই সমস্ত সমস্যার বিরুদ্ধে সিধু ও কানহুর নেতৃত্বে সাঁওতালরা ১৮৫৫ সালে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
—
উপবিভাগ – ঘ-২
৪.৪ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের কীরূপ মনোভাব ছিল?
উত্তর:
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের প্রতি তৎকালীন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের একটি বড় অংশের মনোভাব ছিল বিরূপ বা নিরপেক্ষ। পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত অনেক বাঙালি ব্রিটিশ শাসনকে আধুনিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করতেন। তাঁদের একটি অংশ মনে করতেন, ব্রিটিশ শাসনের আকস্মিক অবসান হলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। আবার কেউ কেউ বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্য নিয়েও সন্দিহান ছিলেন। হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও রাজনারায়ণ বসুর মতো কয়েকজন সমকালীন ব্যক্তির লেখায় বিদ্রোহ সম্পর্কে সমালোচনামূলক মনোভাব দেখা যায়। বাঙালি মধ্যবিত্তের একটি বড় অংশ ব্রিটিশ সরকারের চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তারাও বিদ্রোহকে সমর্থন করেনি। ফলে বাংলায় ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ অন্যান্য কয়েকটি অঞ্চলের মতো ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারেনি।
—
উপবিভাগ – ঘ-৩
৪.৫ ছাপা বইয়ের সঙ্গে শিক্ষা বিস্তারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর:
উনিশ শতকে বাংলায় ছাপাখানার প্রসার শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুরে মিশনারিদের উদ্যোগে ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার পর বাংলা ও অন্যান্য ভাষায় বহু বই প্রকাশিত হতে থাকে। পাঠ্যপুস্তক সহজে ও তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যায় ছাপানো সম্ভব হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কাছে বই পৌঁছানো সহজ হয়। ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান শিক্ষার উপযোগী পাঠ্যবই প্রকাশে উদ্যোগী হয়। বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয়, মদনমোহন তর্কালঙ্কারের শিশুশিক্ষা প্রভৃতি বই প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ছাপা বইয়ের মাধ্যমে জ্ঞান ও নতুন চিন্তাভাবনা শহর থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ছাপাখানার বিকাশ এবং শিক্ষার প্রসার উনিশ শতকে পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে যায়।
৪.৬ কারিগরি শিক্ষার বিকাশে বাংলায় ‘বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’-এর কী ভূমিকা ছিল?
উত্তর:
স্বদেশি আন্দোলনের সময় দেশীয় শিল্প ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে অনুভূত হয়। এই পরিস্থিতিতে তারকনাথ পালিতের উদ্যোগে ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, শিল্প ও প্রযুক্তি-সংক্রান্ত বিষয় পড়ানো হতো। পরবর্তীকালে বেঙ্গল ন্যাশনাল কলেজের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়। এর ফলে শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে স্বনির্ভরতা এবং দেশীয় শিল্প গড়ে তোলার মানসিকতা বৃদ্ধি পায়।
Leave a Reply